শিরোনাম: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত       ৩১ মের পর বাড়ছে না সাধারণ ছুটি       আম্পানে ঝিনাইদহে প্রায় একশ’ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি       খালাবাড়ি বেড়াতে যেয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু       নড়াইলে মেম্বরকে কুপিয়ে হত্যা       আরও ১৭০ ভারতীয় নাগরিক ঢাকা ছাড়লেন        ঝালকাঠিতে নতুন করে আরও পাঁচজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে       উদ্বোধনের ৬ দিন পরও হলি ক্রিসেন্ট চালু হয়নি       সীমান্ত উত্তেজনায় নেপালও ভারতকে চেপে ধরছে       খুলে দেয়া হলো যশোরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান      
‘লুটেপুটে খাই’ যেন না হয়
Published : Monday, 6 April, 2020 at 6:34 PM
করোনাভাইরাসে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে কয়েকটি প্যাকেজে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সহায়তা কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো; সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো, সরকারি ব্যয় ও মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও বৃহৎ শিল্প খাতের কার্যক্রম চালু রাখা।
আমরা এরই মধ্যে জেনেছি, প্রতিবেশ দেশ ভারতসহ বিশ্বের প্রায় সবদেশই করোনাভাইরাসের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্ধা বা ক্ষতি মোকাবেলায় এমন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কেননা এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব দেশকেই একদিকে যেমন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনীতির চাকা সঠিকভাবে চালু রাখতেও লড়তে হচ্ছে। যে লড়াই প্রত্যেকটা দেশের কাছেই বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। যার একটাতেও হারা যাবে না। হারলেই সব শেষ!
গত ১৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। দেরি না করে তার এক সপ্তাহ পর ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভাইরাস মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপের কথা জানান। ওইদিন দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজেরও ঘোষণা দেন তিনি।
সেই অর্থে আজকের প্রণোদনা তা সরকারের দ্বিতীয় পদক্ষেপ। সব মিলিয়ে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ পৌনে ৭৩ হাজার কোটি টাকা। যে অর্থ সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেওয়া হবে। যার মধ্যে শিল্পখাতে অল্পসুদে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে। আর ৪ শতাংশ সুদে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানোর ও স্বল্প আয়ের মানুষের খাবার কেনাসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হবে।
এসব প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেও দিয়েছেন, এই তহবিল নিয়ে কেউ যেন দুর্নীতি বা অপব্যবহার না করেন। মোট কথা সবাইকে সততার সঙ্গে কাজ করতে বলেছেন।
কিন্তু আমরা বারবার দেখেছি, এই ধরনের তহবিল শক্ত হাতে পরিচালিত না হলে, নয়ছয় হয়। তাই শুধু আহ্বান জানালেই হবে না; কেউ যদি এই বিশেষ তহবিল নিয়ে দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত না হতে পারেন, সে জন্য কার্যকর মনিটরিং থাকতে হবে।
আবার মুখ চিনে বা বিশেষ সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকারি তহবিল বণ্টনেরও বহু নজির আমাদের আছে। সেক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতির মুখে পড়া ব্যক্তিদের বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ থেকে যায়। আর তাই যদি হয়, এই তহবিলের আসল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই তহবিল করে দিয়েছেন, তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা না গেলে করোনাযুদ্ধে জয়ী হলেও দুর্নীতির কাছে আমরা হেরে যাবো। যা জাতির জন্য সুখকর হবে না।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft