শিরোনাম: মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই       স্বাস্থ্যবিধি মানায় শৈথিল্য যশোরের অধিকাংশ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে       যশোরাঞ্চলে নামছে অর্ধেক গাড়ি       যশোরে স্বাস্থ্যসেবীসহ নতুন শনাক্ত চারজন       লিবিয়ায় পাচারকারীদের গুলিতে নিহত রাকিবুলের পরিবারে শোকের মাতম       সন্ত্রাসী হামলায় কালিয়া এখন আতঙ্কিত জনপদ       করোনা সঙ্কটে যশোরে শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন       স্বাস্থ্যবিধি মানায় শৈথিল্য যশোরের অধিকাংশ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে       চাল ছাড়া প্রায় সব পণ্যের দাম কমছে        যশোরে যুবক অপহরণের অভিযোগে বিক্ষোভ      
অসচ্ছল সহকর্মীকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা
সরোয়ার হোসেন
Published : Monday, 6 April, 2020 at 6:46 PM
অসচ্ছল সহকর্মীকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরানেই কোনো ঢাকের বাড়ি কিংবা ঢোলের আওয়াজ। মঞ্চগুলোতে নেই কোনো আয়োজন। সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে চলছে শুনশান নিরবতা। পহেলা বৈশাখকে রাঙিয়ে দিতেও নেই শিল্পীদের সুর সাধনা। মঙ্গলশোভাযাত্রা আয়োজনের জন্যেও শিল্পীদের তাগাদা নেই। সকল কিছুই কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস নামের এক ভয়ঙ্কর মারণব্যধি।
এটি এমনই এক ব্যধি যা মানুষে মানুষে তৈরি করেছে দূরত্ব। সব আনন্দ উচ্ছ্বাস কেড়ে নিয়ে চাপিয়ে দিয়েছে একাকিত্বের যন্ত্রণা। প্রত্যেক মানুষকেই বাইরের কাজ ফেলে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে হচ্ছে নিরাপদ দূরত্বে। আশা,যদি নিজে বাঁচা যায়, অন্যকে বাঁচানো যায়। এরই জেরে অসহায় আর দরিদ্র মানুষের ঘরে দেখা দিয়েছে দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের অভাব। সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগে এসব অসহায় মানুষকে খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও এমন কিছু মানুষ আছেন যারা না খেয়ে মরবেন, কিন্তু যেচে কারো কাছে কিছু চাইবেন না। সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যেও এমন অনেক অসচ্ছল ও পিছিয়েপড়াদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।
সোমবার দুপুরে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সাংস্কৃতিক কর্মীরা সহকর্মীদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে কাজ করছেন। কেউ চাল মাপছেন, কেউবা পেঁয়াজ। আবার কেউবা বোতলে তেল ভরছেন। আবার কেউ বস্তাগুলো এগিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করছেন। সেগুলোকে ঠিকঠাক রাখতেও ব্যস্ত কেউ কেউ।
যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতা ও শিল্পকলা একাডেমির সহসভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস বলেন, ‘সারাদেশ বিপন্ন। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র পথ সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। এটা নিশ্চিত করতে সরকারও দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। যে কারণে সবাই এখন ঘরবন্দি-এটা জরুরিও। এ অবস্থায় যারা দিন আনে দিন খায় তারা পড়েছে মহাবিপদে। এসব মানুষকে সহায়তা করার জন্যে সরকারও নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি পর্যায়েও চলছে নানা আয়োজন। যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা অসচ্ছল ও অনগ্রসর। কিন্তু, এরা মুখ ফুটে কারও কাছে কিছু চাইতে পারবে না। সেসব সহকর্মীর ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার জন্যে জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট অন্যান্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে’।অসচ্ছল সহকর্মীকে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা
যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু জানান, ‘জোটের পক্ষ থেকে আপাতত এক হাজার প্যাকেট খাবার প্রস্তুত করা হবে। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে এর তিনশ’ প্যাকেট খাবার অসচ্ছল সহকর্মীদের বাসায় পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।’
প্রতি প্যাকেটে পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি ডাল, এক কেজি তেল, দু’কেজি আলু, এক কেজি লবণ এবং আধা কেজি পেঁয়াজ থাকবে বলে জানান তিনি।
মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মী ছাড়াও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত অনেকে আছেন যারা আমাদের সহকর্মী। এদের মধ্যে রয়েছে লাইট, মাইক ও মঞ্চের সাথে যুক্তরা। বাউল এবং যাত্রাশিল্পীদের অনেকের অবস্থাও করুণ। এসব মানুষ না খেয়ে মারা গেলেও কাউকে বলবে না। সহকর্মী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। সেজন্যে জেলার ৩৩টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে এসব সহকর্মীর ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে’।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের পরপরই যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে। নিজেরা সুরক্ষা সামগ্রী তৈরি করে পৌঁছে দিয়েছেন পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর হাতে। ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ এসব সামগ্রী তৈরি ও সরবরাহ করা হয়েছে’।
অধ্যাপক সুকুমার দাস জানান, প্রথমে ৩৩ সংগঠনের পক্ষ থেকে টাকা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তহবিল। পরে শুভানুধ্যায়ীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। জেলা প্রশাসনও অসচ্ছল সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্যে দিয়েছে দু’হাজার কেজি চাল। এগুলো দিয়েই প্রাথমিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সহকর্মীদের জন্যে আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, ‘যে কোনো দুর্যোগে যশোরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাস নামক মহামারির কবলে যখন বিপন্ন মানুষ, তখন তো আর ঘরে বসে থাকা যায় না। এখন ঢাক, ঢোল, বাদ্য বাজানোর সময় না। মানুষকে ঘরে নিরাপদ রাখতে আমাদের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা এবারও করোনাযুদ্ধে জয়ী হবো’।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft