শিরোনাম: সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশবিরোধী তথ্য প্রচার হলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা       পুলিশের হেফাজতে ওসি প্রদীপ, নেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার আদালতে       করোনা মোকাবিলায় এডিবির আরও ১৫ কোটি টাকা অনুদান       সরকার দুর্নীতিকে সংরক্ষণ করতে চায় : রিজভী       সাহেদের দশ দিনের রিমান্ড চায় দুদক       মহেশপুরে সরকারি রাস্তা দখল করে পাঁকা ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিপাকে একশ পরিবার       চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ৭১ জনের করোনা শনাক্ত       রাঙ্গামাটিতে পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু       পশ্চিমবঙ্গে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে করোনা, আরো ৬১ জনের মৃত্যু       ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ট্যুইটার      
আজ কেশবপুরে ভোট
আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর
Published : Monday, 13 July, 2020 at 9:49 PM, Update: 14.07.2020 10:05:13 PM
আজ কেশবপুরে ভোটকরোনাভাইরাসের মধ্যেই মঙ্গলবার যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিলেও সর্বশেষ ঘোষণা দিয়ে বিএনপি এই নির্বাচন বয়কট করে। কিন্তু, সঠিক নিয়মে নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক থাকছে। তবে, গত কয়েকদিন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহীন চাকলাদার নির্বাচনী ময়দান চষে বেড়ালেও অন্য প্রার্থী জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমানের টিকিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদ ৯০, যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনটি গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার দু’লাখ তিন হাজার ১৮ জন। এর মধ্যে এক লাখ দু’হাজার একশ’ ২২ জন পুরুষ ভোটার এবং নারী ভোটার এক লাখ আটশ’ ৯৬ জন।
২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি এমপি ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে এ আসনটি শূন্য হয়। এরপর গত ১৬ ফেব্রæয়ারি এ আসনের উপনির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৭ ফেব্রæয়ারির মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলাদার, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ ও জাতীয় পর্টি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান। ২৯ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। নির্বাচনের প্রচারণা যখন তুঙ্গে সেই সময় ২১ মার্চ করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচন কমিশন যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপনির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে।
এরপর করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কেশবপুরবাসী  হন অভিভাকহীন, থমকে যায় কেশবপুরের উন্নয়ন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সিইসি পুণরায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই আসনে ১৪ জুলাই উপনির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করে। এরপর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে কেশবপুরের বিভিন্ন হাট, বাজারে পথসভাসহ ব্যাপক গণসংযোগ চালান।
অপরদিকে, গত ৫ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে করোনাভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতি এবং দেশে বন্যার প্রাদুর্ভাব বিবেচনা করে এ উপনির্বাচনে দলের অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো তৎপরতা ছিল না। আবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছিল না কোনো তৎপরতা।
এবিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। নানা গ্রæপে বিভক্ত কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেছি। দলের প্রতি শ্রম ও ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন। ১৪ জুলাই ভোটের দিন ভোটাররা শেখ হাসিনার নৌকাকেই বেছে নেবেন। নৌকা হলো উন্নয়নের প্রতীক’। বিজয়ী হলে উপজেলাকে উন্নত, আধুনিক, মাদকমুক্ত, বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে’।
তিনি আরও বলেন, ‘করোনার দুঃসময়ে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল না। তাই জনগণ তাদের মেনে নিতে পারবে না জেনেই বিএনপি পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন বর্জন করেছে’।
বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে রেখে এ নির্বাচন কখনো মেনে নেয়া যায় না। মানুষের জন্যই সংবিধান। তাই জীবনের চেয়ে সংবিধান কখনো বড় হতে পারে না’।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে এ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। ভোটাররা কেন্দ্রে ভোট দিতে পারলে আমি বিজয়ী হবো।’
তিনি জানান, কেশবপুরের ৩টি ওয়ার্ডে লকডাউন চলছে। তারপরও তিনি ভোটারদের মাঝে লিফলেট ও মাক্স বিতরণ করে চলেছেন। পাশাপাশি সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীনের পর কেশবপুর আসনে সর্বপ্রথম এম এন এ নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত সুবোধ কুমার মিত্র। ১৯৭৩ সালে অবিভক্ত কেশবপুর-মণিরামপুর অঞ্চলের সাংসদ নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য। ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী গাজী এরশাদ আলী, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালীম, ১৯৮৮ সালে অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের, ১৯৯১ সালে জামায়াত থেকে মাওলানা সাখাওয়াৎ হোসেন, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এ এস এইচ কে সাদেক, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের শেখ আব্দুল ওহাব, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের ইসমাত আরা সাদেক নির্বাচিত হন।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার বজলুর রশিদ জানান, কেশবপুর আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালন করবেন ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ছয় প্লাটুন বিজিবি, ১৮টি মোবাইল টিম ও ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যরাও সক্রিয় থাকবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া, প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিয়োজিত রাখা হবে। আজ নির্বাচনী এলাকায় যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
বজলুর রশিদ জানান, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যানারসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, টিস্যুপেপারের ব্যবস্থা রেখেছে। পরামর্শ দেয়া হয়েছে ভোট দিয়েই দ্রæত স্থান ত্যাগ করার।
তিনি আরও জানান, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে এলাকায় এলাকায় টহল দিচ্ছে। এই আসনের তিনশ’ ৭৪টি ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, সিলসহ সব সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া হয়েছে। নির্বিঘেœ ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূসরাত জাহান বলেন, নির্বাচন কমিশন ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে সুষ্ঠা নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।  





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft